পূর্বাভাসের তুলনায় মজুদ বেশি কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে গত বুধবার জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। একদিনের ব্যবধানে দাম আবার কমেও আসে। স্বল্প মেয়াদে চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্নের ফলাফল হিসেবে একে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বর্তমানে জ্বালানি ব্যবহারের প্রবণতা ও সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য পুনর্মূল্যায়ন করায় জ্বালানি তেলের দামে এ পতন। খবর রয়টার্স।
ফিউচার মার্কেটে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৫ সেন্ট কমে প্রতি ব্যারেল ৭০ ডলার ৯০ সেন্ট হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১০ সেন্ট কমে প্রতি ব্যারেল ৬৭ ডলার ৫৮ সেন্টে নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি পণ্যের মজুদ পূর্বাভাসের তুলনায় কমে আসার খবরে বুধবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছিল। এদিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ ৫৭ লাখ ব্যারেল কমে যায়, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশিত ১৯ লাখ ব্যারেলের তুলনায় তিন গুণ। এ সময় ডিস্টিলেটের (ডিজেল ও হিটিং অয়েল) মজুদও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে, তবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বেড়েছে।
নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, ‘মার্কিন গ্যাসোলিনের মজুদ কমে যাওয়ায় বসন্তে চাহিদা বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে শুল্ক যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। শক্তিশালী ও দুর্বল উভয় প্রবণতা একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় বাজারের পক্ষে একদিকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’
গত বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর আরো শুল্ক বাড়াতে পারেন তিনি, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধকে আরো তীব্র করবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদাররা জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের আরোপিত বাণিজ্যিক বাধার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ বিনিয়োগকারী, ভোক্তা ও ব্যবসায়িক আস্থাকে দুর্বল করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও বেড়েছে।
বুধবার অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ওপেক প্লাস দেশের মধ্যে কাজাখস্তান জ্বালানি তেলের উত্তোলন সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে। এর ফলে উত্তোলন সীমা বজায় রাখতে ওপেক প্লাস গ্রুপের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল জেট ফুয়েলের চাহিদা বাজারের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করেছে। চলতি মাসে মার্কিন বিমানবন্দরে যাত্রী গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ কমেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে স্থিতিশীল ছিল। তবে শক্তিশালী চাহিদার প্রত্যাশা বাজারের অতিরিক্ত দুর্বলতা প্রতিরোধ করেছে।
তারা বলেন, ‘শক্তিশালী মার্কিন চাহিদা এবং রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ইউক্রেনের ৩৭৭টি ড্রোন হামলা জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।’
১১ মার্চ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা ছিল ১০ কোটি ২২ লাখ ব্যারেল, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ লাখ ব্যারেল বেশি। এছাড়া এটি মাসিক পূর্বাভাসের তুলনায় দৈনিক ৬০ হাজার ব্যারেল বেশি ছিল।